7u7: অবৈধ সাইটের কারণে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
· অফিসিয়াল
নেদারল্যান্ডসের জুয়া খেলার বাজার বর্তমানে একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ডাচ জুয়া কর্তৃপক্ষ বা কেএসএ (KSA) জানিয়েছে যে, অবৈধ বা ব্ল্যাক মার্কেট সাইটগুলোর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে দেশটির সরকার প্রতি বছর ৫০০ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি কর রাজস্ব হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা 7u7 দেখা দিয়েছে।
কেএসএ-এর নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান মাইকেল গ্রুথুইজেন জানিয়েছেন, অবৈধ জুয়ার বাজারটি এখন একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মতো কাজ করছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র জাতীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং এটি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ অপরাধী চক্রগুলো এখন অত্যন্ত সুসংগঠিত।
সম্প্রতি হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে জুয়া খেলার বিজ্ঞাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা, কেন্দ্রীয় লগইন পোর্টাল তৈরি এবং জুয়া খেলার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর করার মতো বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল এমনকি অনলাইন জুয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছে।
তবে অনেক নীতিনির্ধারক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অতিরিক্ত কঠোর নিয়মকানুন হয়তো অজান্তেই অবৈধ বাজারকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বর্তমানে ডাচ কর্তৃপক্ষ অবৈধ সাইটগুলো বন্ধ করার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা 7u7 প্রদানকারীদের বাধ্য করার মতো কোনো কার্যকর আইনি কাঠামো খুঁজে পাচ্ছে না। ফলে, তারা এখন সরাসরি অবকাঠামোগত বাধার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো অবৈধ ওয়েবসাইটগুলোর দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেওয়া এবং পেমেন্ট বা লেনদেনের পথ বন্ধ করা। গ্রুথুইজেন জানিয়েছেন, 7u7 বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। আর্থিক খাতের সাথেও আলোচনা চলছে যাতে অবৈধ সাইটে টাকা জমা দেওয়া বা সেখান থেকে টাকা তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অবৈধ জুয়া সাইটগুলো যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার একটি উদাহরণ সম্প্রতি সামনে এসেছে। একটি 7u7 অবৈধ সাইট নিজেকে ডাচ আত্মহত্যা প্রতিরোধ সহায়তা ওয়েবসাইট হিসেবে উপস্থাপন করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এই ধরনের সাইটগুলো কোনো জাতীয় আইন বা নিয়ম মানে না এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষার ব্যাপারেও তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই অবৈধ অপারেটররা এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রচার চালায় যারা ইতিমধ্যে জুয়ার সমস্যায় আক্রান্ত। যারা সরকারিভাবে জুয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখতে 7u7 'ক্রুকস' (Cruks) রেজিস্টারে নাম লিখিয়েছেন, তাদেরও প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে এই অবৈধ 7u7 সাইটগুলো। তারা সরাসরি বার্তা দেয় যে, সরকারি নিয়ম এড়িয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে জুয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সামগ্রিকভাবে, ডাচ সরকার এখন অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। প্রযুক্তিগত বাধা তৈরি এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস বন্ধ করার মাধ্যমে তারা এই বিশাল কর রাজস্বের ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এবং একটি স্বচ্ছ বাজার নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।